স্থায়ীভাবে ত্বককে উজ্জ্বল রাখতে ৬টি ঘরোয়া পদ্ধতি

স্থায়ীভাবে ত্বককে (skin) উজ্জ্বল রাখতে ৬টি ঘরোয়া পদ্ধতি

ত্বক (skin) উজ্জ্বল থাকলে কেউ সাজুক আর না সাজুক দেখতে কিন্তু বেশ লাগে। তাই সব মেয়েরাই ত্বকের বিশেষ পরিচর্যা করে। প্রাচীনকাল থেকে প্রাকৃতিক উপায়ে ত্বক উজ্জ্বল করার অনেক পদ্ধতি ব্যবহার হয়ে আসছে। এই পদ্ধতিগুলো অবশ্য বাজারের কেনা ক্রিম থেকে ভালো কাজ করে। নেই কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও। এগুলো ঘরে বসেই এই পদ্ধতি অবলম্বন করা সম্ভব। তবে চলুন ত্বক উজ্জ্বল রাখতে কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি জেনে নেই-

কাঁচা দুধ: ত্বকের (skin) ভিতরে যখন পুষ্টির ঘাটতি হয় এবং ত্বকের (skin) আদ্রতা হারিয়ে যায় তখন ত্বক কালো ও শুষ্ক হয়ে যায়। এ সময় নিয়মিত কাঁচা দুধের সাহায্যে ত্বকের পরিচর্যা করার পরামর্শ দেন রূপচর্চা বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা। এক্ষেত্রে অল্প পরিমাণে কাঁচা দুধ নিয়ে মুখে লাগিয়ে কিছু সময় মাসাজ করতে হবে। নিয়মিত ১৫ মিনিট এমনভাবে ত্বকের পরিচর্যা করলে সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে চোখে পরার মতো।

কলা : একাধিক স্টাডি অনুসারে, কলায় উপস্থিত রয়েছে ভিটামিন এ, বি, ই এবং পটাশিয়াম, যা ত্বকের (skin) ভিতরে প্রবেশ করে ত্বককে উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে। সেই সঙ্গে ত্বকের গভীরে পুষ্টির ঘাটতিও দূর হয়। এক্ষেত্রে পরিমাণ মতো কলা নিয়ে চোটকে নিতে হবে। তারপর সেই পেস্টটি ভাল করে মুখে লাগিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।

লেবু ও মধু : ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতে মধু ও লেবুর কোনও বিকল্প হয় না। আসলে এই প্রাকৃতিক উপাদানের ভিতরে থাকা একাধিক পুষ্টিকর উপাদান একদিকে যেমন ত্বকের (skin) সৌন্দর্য বাড়ায়, তেমনি ত্বকের যে কোনও ধরনের দাগও মিলিয়ে যেতে সাহায্য করে। এক্ষেত্রে এক চামচ মধুর সঙ্গে আধ চামচ লেবুর রস মিশিয়ে একটি পেস্ট বানিয়ে নিতে হবে। তারপর সেই পেস্টটি ভাল করে মুখে এবং গলায় লাগিয়ে হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।

আরো পড়ুন  ত্বককে নিখুঁত দেখাবার জন্য মেকআপের ৫ টি টিপস

দই: এতে উপস্থিত ল্যাকটিক অ্যাসিড এবং আলফা হাইড্রক্সসিয়াল অ্যাসিড মৃত কেষের স্থরকে সরিয়ে দেয়। সেই সঙ্গে ত্বকের (skin) ভিতরে পুষ্টির ঘাটতি যেমন দূর করে, তেমনি ক্ষতিকর টক্সিক উপাদানদের বের করে দেয়। এক্ষেত্রে এক বাটি দইয়ের সঙ্গে সম পরিমাণে ওটস মিলিয়ে একটা পেস্ট বানিয়ে নিতে হবে। তারপর তা মুখে লাগিয়ে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। সময় হয়ে গেলে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফলতে হবে।

পেঁপে: ত্বককে উজ্জ্বল করতে নিয়মিত পেঁপে দিয়ে বানানো ফেসপ্যাক মুখে লাগাতে হবে। এক্ষেত্রে পরিমাণ মতো পেঁপের সঙ্গে মধু মিশিয়ে নিতে হবে। তারপর তা মুখে লাগিয়ে কম করে ২০ মিনিট ভাল করে মাসাজ করতে হবে। এইভাবে প্রতিদিন ত্বকের (skin) পরিচর্যা করলেই ভাল ফল পাওয়া যাবে।

টমাটো: এতে উপস্থিত লাইকোপেন নামক এক ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট একদিকে যেমন ত্বকের (skin) ভিতরে ক্ষত সারায়, তেমনি পুষ্টির ঘাটতিও দূর করে। এক্ষেত্রে অল্প পরিমাণ টমাটোর রসের সঙ্গে পরিমাণ মতো মধু মিশিয়ে সেটি মুখে লাগাতে হবে। শুধু টমেটো দিয়েও মাসাজ করতে পারেন।

আজীবন যৌবন ধরে রাখবে যে ১২ টি খাবার

একটু চেষ্টা করলেই আপনি বয়স বাড়লেও শরীরকে সুন্দর আর আকর্ষণীয় করে রাখতে পারবেন। প্রকৃতির নিয়মেই মানুষের বয়স বাড়ে, বয়সের ছাপ(Age impression) পড়তে থাকে শরীরে। তাই সুস্থ থাকতে এবং তারুণ্য ও যৌবন ধরে রাখতে পুষ্টিকর খাবারের কোনো বিকল্প নেই। নিজেকে সুস্থ-সবল রাখতে পুষ্টিকর খাবারের দিকে নজর দেয়া দরকার। এমন কিছু খাবার আছে যা নিয়ম করে খেলে আপনার যৌবন(Youth) থাকবে অটুট। আসুন জেনে নিন আজীবন যৌবন ধরে রাখবে যে ১২ টি খাবার…

আরো পড়ুন  তেলতেলে ত্বক ও গালের গর্ত দূর করার ৮ টি ঘরোয়া টিপস

সামুদ্রিক মাছ ও মিষ্টিকুমড়ার বিচি:
সামুদ্রিক মাছ(Marine fish) যৌবন ধরে রাখতে সহায়ক। দীর্ঘ দিন যৌবন ধরে রাখতে চাইলে নিয়মিত খাবার তালিকায় লাল মাংস বাদ দিয়ে সামুদ্রিক মাছ রাখুন। তাতে শরীরে প্রয়োজনীয় প্রোটিনের চাহিদা পূরণ হয়ে যাবে এবং যৌবন ধরে রাখা যাবে বহুদিন। এতে আছ প্রচুর সাইটোস্টেরোল। এটি পুরুষের দেহে টেসটোস্টেরন হরমোনের ভারসাম্য রক্ষা করে। এর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং ফ্যাটি এসিড(Fatty acid) পুরুষের শক্তি বাড়ায়। পুরুষের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক।

দই:
দই আমাদের অনেকের কাছে খুব প্রিয় একটি খাবার। দই মেদ ও কোলেস্টেরল(Cholesterol) কমাতে সহায়তা করে। যারা যৌবন ধরে রাখতে চান তাদের জন্য আশার কথা হচ্ছে নিয়মিত দই খান। দইয়ে প্রচুর প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম আছে যা শরীরের গঠন ভালো রাখে এবং হাড়ের ক্ষয় রোধ করে। দই(Curd) বয়সজনিত কারণে হওয়া রোগগুলো প্রতিরোধ করে। এছাড়াও দই ত্বককে রাখে বলিরেখা মুক্ত। তাই যৌবন ধরে রাখতে চাইলে প্রতিদিন দই খান।

কলা ও আমলা:
কলার রয়েছে ভিটামিন এ, বি, সি ও পটাশিয়াম। পটাশিয়ামের অভাবে ত্বক রুক্ষ হয়, কলা সেই পটাশিয়ামের অভাব পূরণ করে দেয়। ভিটামিন বি ও পটাশিয়াম(Potassium) মানবদেহের যৌনরস উৎপাদন বাড়ায়। আর কলায় রয়েছে ব্রোমেলিয়ানও যা শরীরের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা বাড়াতে সহায়ক এবং যৌবন ধরে রাখতে সহায়ক। আয়ুর্বেদ চিকিৎসায় একে পুরুষের শারীরিক সক্ষমতা মন্ত্র বলে গণ্য করা হয়। পুরুষের শরীরের সঠিক তাপমাত্রা বজায় রাখতেও দারুণ সহায়ক।

ফলমূল ও রঙিন শাক-সবজি:
ফলে আছে প্রচুর ফাইবার, ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা শরীরে পুষ্টি যোগায় ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। তাই যৌবন ধরে রাখতে চাইলে নিয়মিত ফল খান। রঙিন শাক-সবজিতে আছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন(Vitamin) যা শরীরের চাহিদা মেটায় এবং শরীরকে সুস্থ্ রাখতে সহায়তা করে। নিয়মিত রঙিন শাকসবজি খেলে আপনার যৌবন থাকবে অটুট।

আরো পড়ুন  নিখুঁত ত্বক পেতে গ্রিন টি দিয়ে তৈরি করুন দারুন ৪টি ফেসপ্যাক

কমলালেবু ও অলিভ অয়েল:
কমলালেবু খাওয়া শরীরের জন্য খুবই ভাল। কারণ এতে অনেক ভিটামিন-সি(Vitamin-C) থাকে। ত্বক টানটান রাখতে কমলালেবু সাহায্য করে। অলিভ তেল আপনার যৌবনকে ধরে রাখতে সাহায্য করবে। রান্নায় অলিভ অয়েল ব্যবহার করলে শরীরে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমে যায় এবং সহজে মেদ জমে না। এছাড়াও প্রতিদিন ঘুমাতে যাওয়ার আগে ত্বকে অলিভ অয়েল ম্যাসাজ করে ঘুমালে ত্বকে বলিরেখা পরে না সহজে। ফলে দীর্ঘ দিন যৌবন ধরে রাখা যায়।

স্ট্রবেরি ও রসুন:
স্ট্রবেরি হোক কিংবা ব্ল্যাকবেরি, সবকটিই আপনার শরীরের জন্য খুবই ভালো। এতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি(Vitamin-C) থাকে। আপনার ত্বককে করে রাখবে সতেজ। রসুনে রয়েছে এলিসিন নামের উপাদান যা দৈহিক ইন্দ্রিয়গুলোতে রক্তের প্রবাহ বাড়িয়ে দেয়। দৈহিক সমস্যা থাকলে এখনই নিয়মিত রসুন(Garlic) খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

ডার্ক চকলেট:
যারা চকলেট ভালোবাসেন তাদের জন্য ভালো খবর হলো ডার্ক চকলেট(Dark Chocolate) বয়স ধরে রাখতে সহায়তা করে। ডার্ক চকলেটে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আছে। তাই যারা নিয়মিত প্রতিদিন ছোট এক টুকরা ডার্ক চকলেট খান তারা দীর্ঘদিন যৌবন ধরে রাখতে পারেন। উপরের খাবার গুলি আপনার জীবন ও যৌবনকে ধরে রাখবে আজীবন। তাই নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার খান আর সর্বদা নিজেকে হাসি-খুশি রাখুন, বিষণ্ণতা কোনোভাবেই ধারে-কাছে ভিড়তে দেবেন না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *