দাড়ি গজানোর সহজ ঘরোয়া উপায়

দাড়ি হল কারো গাল, থুতনি, ঘাড় এবং ওষ্ঠের ওপরের অংশে গজানো চুল। সাধারণত বয়ঃসন্ধিকালের বা বয়সন্ধিকালোত্তীর্ণ পুরুষলোকের দাড়ি গজায়। মুখমন্ডলের ওপরের ও নিচের অংশের চুলের মধ্যে পার্থক্য করতে বলা হলে দাড়ি মূলত নিচের অংশের চুলকেই বোঝায়, যার মধ্যে গোঁফ অন্তর্ভুক্ত নয়। দাড়ি সংক্রান্ত অধ্যয়ন পগনোলজি নামে পরিচিত।

দাড়ি গজানোর সহজ ঘরোয়া উপায়
দাড়ি দ্রুত গজাতে প্রোটিন-সমৃদ্ধ খাবার খান।

ইতিহাসের পাতা থেকে জানা যায়, দাড়িবিশিষ্ট পুরুষলোককে জ্ঞান ও প্রজ্ঞার অধিকারী, পৌরুষত্বের অথবা উঁচু সামাজিক মর্যাদার অধিকারী ভাবা হত। আবার মুদ্রার অন্য পিঠে দাড়িযুক্ত পুরুষকে নোংরা, অসংস্কৃত এবং কিম্ভূত চেহারার ভবঘুরেও বিবেচনা করা হত। দাড়ির এই মর্যাদা ও অমর্যাদা সংস্কৃতি-সাপেক্ষ।

দাড়ি কোন সময় বেশি গজায় বা গাজানোর সময় কখন?

বয়ঃসন্ধিকালে দাড়ি গজায়। এ সময়ে মুখমন্ডলের লোমকূপে ডিহাইড্রোটেস্টোস্টেরন এর উদ্দীপনার কারণে দাড়ি গজায়। চুলের গ্রন্থিগুলো অবস্থানের ওপর নির্ভর করে বিভিন্ন হরমোন দ্বারা প্রভাবিত হয়; ডিহাইড্রোটেস্টোস্টেরন টাক পড়াকেও প্রভাবিত করে। ডিহাইড্রোটেস্টোস্টেরন টেস্টোস্টেরন হতে নিঃসৃত হয়, যার মাত্রা বিভিন্ন ঋতুতে বিভিন্ন হয়: ফলে গ্রীষ্মকালে দাড়ি দ্রুত বাড়ে।

দাড়ি গজানোর সহজ ঘরোয়া উপায়

অনেক পুরুষেরই আক্ষেপের নাম দাড়ি। অনেকেই অনেক চেষ্টাফিকির করে মুখে দাড়ির দেখা পাননি। আসুন জেনে নেই খুব সহজে কীভাবে দাড়ি ওঠানোর চেষ্টা করা যায়; একেবারেই ঘরোয়া উপায়েই।

আরো পড়ুন  মাথাব্যথা হলে এই টিপসটি শিখে রাখুন মাত্র ৬০ সেকেন্ডে দূর হবে মাথাব্যথা

দাড়ি গজাতে ভিটামিন ই ক্যাপসুল

দাড়ি গজাতে ভিটামিন ই ক্যাপসুল

মুখের যত্ন নিন

মুখের যত্ন নিন। ভালো করে ঘঁষে ত্বকের ওপর থেকে মৃত কোষ দূর করার চেষ্টা করুন। এর ফলে নতুন দাড়ি গজানোর প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হবে।

লোম গজানোর উপায় কি?

চামড়া পরিষ্কার

মুখের চামড়া পরিষ্কার রাখুন। অন্তত সকালে ও সন্ধ্যায় একবার করে গরম পানিতে ভালো করে ধুয়ে নিন। ক্লিনজিং মিল্ক ব্যবহার করলে আরও ভালো।

ইউক্যালিপটাস ক্রিম দামমুখে দাড়ি গজানোর উপায়

ইউক্যালিপটাস ক্রিম দাম

ইউক্যালিপটাস

ইউক্যালিপটাস দেয়া আছে, এ রকম ক্রিম বা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলে দ্রুত দাড়ি গজাবে।

পেঁয়াজের রস

পেঁয়াজের রস মুখের ওপর লাগালে দাড়ি বাড়তে সাহায্য করে। পেঁয়াজের মধ্যে থাকা সালফার এই কাজ করে থাকে।

কোঁকড়ানো দাড়ি

বিক্ষিপ্তভাবে কোঁকড়ানো দাড়ি থাকলে, তা কেটে ফেলুন। এগুলো সুষমভাবে দাড়ি বৃদ্ধিতে সমস্যা তৈরি করে।

বিশ্রাম নিন

সারা দিনে যথেষ্ট পরিমাণে বিশ্রাম নিন। তার ফলে ত্বকের ক্ষতিগ্রস্ত কোষগুলো সেরে উঠবে। দ্রুত দাড়ি গজাবে।

স্ট্রেস কমান

স্ট্রেস কমান। শুনতে আশ্চর্য লাগলেও বিজ্ঞানীরা বলছেন, চাপ কমলে বা রিল্যাক্সড থাকলে দাঁড়ি গজায় তাড়াতাড়ি।

শরীরচর্চা

শরীরচর্চা করুন। তার ফলে মুখমণ্ডলে রক্ত-সঞ্চালন বাড়ে, যা দাড়ি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

আরো পড়ুন  লোম গজানোর উপায় কি?

ভিটামিন

খাদ্য তালিকায় নিয়মিত ভিটামিন ও মিনারেলযুক্ত ফল এবং শাকসবজি রাখুন। ভিটামিন বি কমপ্লেক্স দাড়ি বাড়ানোয় সাহায্য করে। চিকিৎসকের পরামর্শমতো নানা ধরনের হেলথ সাপ্লিমেন্ট ও ভিটামিন খেয়েও দাড়ির বৃদ্ধি বাড়ানো যায়।

 

দাড়ি না গজালে এছাড়া কিছু ঘরোয়া উপায় অবলম্বন করে দেখতে পারেন।

আমারা জানি হরমোন সমস্যার কারনে কার কার মুখে দাড়ি গজায় না। এমন কিছু খাবার রয়েছে যে গুল খেলে হরমোন সমস্যা কিছুটা কমান যায়। ফলে আপনার মুখের দাড়ি গজান শুরু করবে। এবং দাড়ি সুন্দর হবে।

০১. কাঠ বাদামঃ এটি একটি পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ খাবার। এতে প্রচুর পরিমাণে নিউট্রেশন ক্যালসিয়াম এবং পটাশিয়াম রয়েছে। প্রতিদিন ৩০ গ্রাম পরিমাণ একটানা ৩০ দিন খেলে আপনার মুখে দাড়ি গজাতে সাহায্য করবে এবং খুব তাড়াতাড়ি দাড়ি গজাবে।

০২. কমলা লেবুঃ প্রতিদিন একটি করে কমলা খাবার অভ্যাস করুন। এটি আপনার মুখের দাড়ি গজানোর জন্য খুব উপকারি।

০৩. ছলাঃ ছোলায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, প্রোটিন এবং ক্যালরি। এটি খেলে আপনার শরীরের শক্তি শক্তির সঞ্চার করে আপনার শরীরে পুষ্টি উপাদান সরবারহ করে। সকালে খালি পেটে কাঁচা ছোলা খেলে খুব সহজে আপনার মুখে দাড়ি গজাবে।

০৪. দাড়ি গজাতে ঘুম খুবই জরুরী। যাদের কম ঘুম হবে তাদেরকে বেশি করে ঘুমাতে হবে। কারণ ঘুম কোষের পূর্ন গঠনে সাহায্য করে থাকে ও দাড়ি গজাতে সাহায্য করে।

আরো পড়ুন  সন্তান নিতে চাইলে যেসব খাবার খাবেন

০৫. বাইরে থেকে এসে মুখ ভালোভাবে ফেজ ওয়াশ দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। আর সপ্তাহে অন্তত একদিন স্ক্রাবিং করতে হবে। স্ক্রাবিং এর ফলে মুখের মৃত্যুকোষ উঠে যায়। আর রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পায়।

০৬.. প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। ডিম মাছ মাংস খেতে হবে। এছাড়াও ভিটামিন ও মিনারেলস ও বেশি পরিমাণে খেতে হবে।

০৭. মানসিক চাপমুক্ত থাকতে হবে। কারণ মানসিক চাপে থাকলে হরমোনের ভারসম্য ঠিকমতো বজায় থাকে না। যোগ ব্যায়ামের সাহায্যে মানসিক চাপ কমাতে পারবেন। অনেকের ধরণা দাড়ি বেশি বেশি কামালে এটা দ্রুত ঘন হয়। এটা সম্পূর্ন ভূল ধরণা। বেশি দাড়ি কামালে এটা শক্ত হয়ে গিয়ে গ্রোথ অনেক কমে যায়। তাই চেষ্টা করবেন, ছয় সপ্তাহ পর পর দাড়ি কামাতে। নিয়মিত চিরনি ও ব্রাশ দিয়ে দাড়ি আচড়ে নিতে হবে। এতে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পাবে ও দাড়ি অনেক দ্রুত হারে বৃদ্ধি পাবে।

আপনাকে পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমতে হবে। দাড়ি গজানোর জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম খুব উপকারি।

সব ধরনের ফল আপনার মুখের দাড়ি গজানোর জন্য খুব উপকারি। কারন ফলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, প্রোটিন এবং ক্যালরি রয়েছে। তাই নিয়মিত যে কোন ফল খাবার চেষ্টা করুন।।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *