ত্বকের সৌন্দর্য ও রূপচর্চায় কাঁচা হলুদের ব্যবহার

হলুদ একটি অতি পরিচিত মশলা, ভেষজ এবং প্রশাধনী উপাদান। সেই প্রাচীনকাল থেকে শুরু করেঅদ্যাবধি মেয়েদের রূপ-সৌন্দর্য চর্চায় কাঁচা হলুদের যেন জুড়ি নেই। বিয়ের আগে কি কনে, কি বর, কাঁচা হলুদ ছাড়া যেন চলেই না। ত্বকের(Skin) লাবন্য বাড়াতে, মুখে ব্রণ এর দাগ দূর করতে, বয়সের ছাপ(Age impression) কমাতে, রিঙ্কেলস কমাতে, চোখের নিচের কালো দাগ দূর করতে, বয়স ধরে রাখাসহ-নানা কাজে এখন কাঁচা হলুদ ব্যবহৃত হচ্ছে। রূপচর্চার বিভিন্ন প্যাক তৈরী করতে এই হলুদ হারবাল উপাদান হিসেবে খুব উপকারি। এছাড়াও আয়ুর্বেদিক(Ayurvedic) এবং চায়নিজ মেডিসিনে হলুদ ব্যবহার করা হয় শরীরের ভিতর ও বাইরের রোগের ইনফেকশন প্রতিরোধে। এটি ত্বকের(Skin) ক্ষতিকারক ব্যাক্টেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়ে ত্বককে ভেতর থেকে সারিয়ে তোলে। আজ আমরা রূপচর্চায় ও ভেষজ উপাদান হিসেবে হলুদের অবদান ও এর কয়েকটি উপকারি প্যাক নিয়ে নিচে আলোচনা করব।

১.ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতেঃ
ত্বকের উজ্জ্বলতা(Skin shine) বাড়ানোর বিষয়টি নিয়ে প্রসাধনী বাজার বর্তমানে গরম। যে করেই হোক কালো ত্বককে ফর্সা করতেই হবে। এমন কাজের ক্ষেত্রে কাঁচা হলুদের যথেষ্ট প্রাধান্য লক্ষ্য করা যায়। এজন্য কাঁচা হলুদের রস, মুলতানি মাটি মিশিয়ে মুখে লাগান। প্যাক শুকিয়ে এলে গোলাপজল(rose water) দিয়ে মুছে নিন। এছাড়া সামান্য একটু কাঁচা হলুদ(Raw yellow) আর মধু মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে লাগাতে পারেন। এরপর ১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। দেখুন ত্বক(Skin) কতটা মসৃণ ও কোমল হয়ে গেছে। এছাড়া, প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে দুধের সাথে কাঁচা হলুদ মিশিয়ে খেলে, ধীরে ধীরে ত্বকের রঙ ফর্সা হয়। রক্ত পরিষ্কার করে, ত্বককে ভেতর থেকে সুন্দর করে। সকালে ঘুম থেকে উঠে কাঁচা হলুদের রস খেলেও সমান উপকারিতা পাওয়া যায়। যারা শুধু কাঁচা হলুদ খেতে পারেন না, তারা চিনি অথবা গুড় মিশিয়ে নিতে পারেন।

আরো পড়ুন  ত্বক ও চুলের যত্নে ডিম এর ব্যবহার

২.মুখের দাগ দূর করতে কাঁচা হলুদঃ
মুখের দাগ দূরীকরণে কাঁচা হলুদ একটি উপকারি উপাদান। ব্রণের দাগ(Acne scars) দূর করতে টমেটোর রস, কাঁচা হলুদ আর মধু মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে ত্বকে ব্যবহার করতে পারেন। এতে অনেক দ্রুত দাগ দূর হয়। এছাড়া ত্বকের কালো ছাপ দূর করতে কাঁচা হলুদ, মশুরীর ডাল একসাথে বেটে পেস্ট তৈরি করে মুখে লাগিয়ে ২০ মিনিট পরে ধুয়ে ফেলুন। এটি সপ্তাহে অন্তত: ১ বার ব্যবহার করলে মুখের কালো দাগ(Black spots) দূর হয়।

৩.তৈলাক্ত ত্বকের ফেস প্যাকঃ
হলুদের রস তৈলাক্ত ত্বকের অতিরিক্ত তেল তেলে ভাব দূর করতে অনেক উপকারি ভূমিকা পালন করে থাকে। এটি ভিটামিন সি(Vitamin C) ও চন্দনের গুড়ার সাথে মিশে ত্বকের অতিরিক্ত তেল নিঃসরণে সাহায্য করে। এজন্য সপ্তাহে একদিন এক চামুচ চন্দনের গুড়ার সাথে আধা চামুচ হলুদ গুড়া আধা কাপ কমলার রসে(Orange juice) মিশিয়ে ভালোভাবে পেষ্ট করে নিতে হবে। এরপর সম্পুর্ন মুখে মেখে কিছুক্ষন অপেক্ষা করে অত:পর তা ধুয়ে নিন।

৪.ব্রণ দূর করতেঃ
কাঁচা হলুদের প্যাক ব্রণ দূর করতে অনেক উপকারি। এর আয়ুর্বেদিক উপাদান ভেতর থেকে ব্রণের জীবানুকে বাইরে বের করে দেয়। এজন্য সপ্তাহে দুই দিন ২ চামচ কাঁচা হলুদের রস, ১ চামচ মুলতানি মাটি(Mlantani soil) ও ১ চামচ নিমপাতার রস এক সঙ্গে মিশিয়ে পেস্ট করে ত্বকে লাগাতে পারেন। প্যাক শুকিয়ে এলে গোলাপজল দিয়ে মেসেজ করে প্যাকটি নরম করে নিন এবং কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এছাড়া রাতে ঘুমানোর আগে শুধু ব্রণের উপর সরাসরিও কাঁচা হলুদ লাগিয়ে রাখা যায়। এতেও ব্রণ(Acne) দ্রুত বসে যায়।

আরো পড়ুন  রূপচর্চায় কাঁচা হলুদের ৯টি জাদুকরী ব্যবহার জেনে নিন

৫. চোখের নীচে কালো দাগ দূর করতেঃ
২-৩ চিমটি হলুদ গুঁড়ার সাথে মাখন মিশিয়ে চোখের নীচে লাগিয়ে রাখুন। ২০ মিনিট পরে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে উক্ত স্থান ধুয়ে ফেলুন। চোখের নিচের বলিরেখা সহ কালো দাগ(Black spots) দূর হবে।

৬. বয়স ধরে রাখতে কাঁচা হলুদঃ
১ দিন পর পর বেসন, কাঁচা হলুদ বাটা, টক দই(sour yogurt) মিশিয়ে মুখ সহ সারা শরীরে লাগিয়ে রাখুন -না শুকানো পর্যন্ত। শুকিয়ে গেলে ঘড়ির কাটার উলটো দিকে স্ক্রাব করে মেসেজ করুন। এটি ত্বকের ময়লা পরিষ্কার করার সাথে সাথে ত্বকের তারুণ্যভাব ধরে রাখে অর্থাৎ আপনাকে প্রকৃত বয়সীর তুলনায় অনেকটাই কম বয়সী মনে হবে।

৭. পোড়া ও কাটা জায়গায় হলুদের ব্যবহারঃ
কাঁচা হলুদ একটি এন্টিসেপ্টিক(Antiseptic)। তাই কাটা এবং পোড়া জায়গায় হলুদ বাটার সাথে এলোভেরা মিশিয়ে দিলে অনেক উপকার পাওয়া যায় । তাড়াতাড়ি ব্যথা এবং দাগের উপশম ঘটে।

আরো পড়ুন  সুন্দর ত্বক ও চুলের জন্য ৭টি ঘরোয়া বিউটি টিপস

৮. ত্বকের রোদে পোড়া দূর করতেঃ
যারা সারাদিন বাইরে থাকেন, তাদের ত্বকের পোড়া ভাব এবং পিগ্মেন্টেশন কমাতে হলুদ বাটা, শশার রস, মুলতানি মাটি, লেবুর রস(Lemon juice) মিশিয়ে প্যাক বানিয়ে মুখে মাস্ক হিসেবে ৩০ মিনিট লাগিয়ে রাখুন। ত্বকের পোড়া ভাব কমে যাবে।

৯. ত্বকের অবাঞ্ছিত লোম দূর করতেঃ
প্রতিদিন ময়দার সাথে কাঁচা হলুদ বাটা মিশিয়ে স্ক্রাব করলে, ত্বকের অবাঞ্ছিত লোম(Unwanted hair) ধীরে ধীরে কমে যায়।

১০. পায়ের গোড়ালির ফাটা দাগ দূর করতেঃ
কাঁচা হলুদের সাথে নারিকেল তেল অথবা ক্যাস্টর অয়েল(Castor Oil) মিশিয়ে ১৫ মিনিট লাগিয়ে রাখলে পায়ের ফাটা দাগ কমবে, পায়ের ত্বক সুন্দর এবং নরম থাকবে। এ কাজটি করতে হবে গোসলে যাওয়ার আগে।

১১. চর্ম রোগ থেকে মুক্তিঃ
যে কোনো চর্ম রোগের জন্য হলুদ অনেক উপকারি একটি ভেষজ। কাঁচা হলুদের সাথে কাঁচা দুধ(Milk) মিশিয়ে শরীরে মাখলে একজিমা, অ্যালার্জি, চুলকানি প্রভৃতি চর্ম রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

১২. ত্বকের মরা কোষ দূর করতে হলুদঃ
২-৩ চিমটি হলুদ, চিনি এবং চালের গুঁড়ো(Rice powder) মিশিয়ে মুখ স্ক্রাব করলে মুখের সব মরা কোষ দূর হবে। তাছাড়া শুষ্ক এবং কালো ঠোঁট(Lips) এর জন্য হলুদ গুঁড়ো এবং কাঁচা দুধ মিশিয়ে স্ক্রাব করলে অনেক ভালো ফলাফল পাওয়া যায়। ঠোঁটের মরা কোষ থাকবে না এবং ঠোঁটের কালচে ভাব দূর হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *