যে সব কারণে চুল পড়ে জেনে নিন চুল পড়া কমান

দিন দিন মাথার চুল  (hair) পাতলা হয়ে যাচ্ছে। ঝরে যাচ্ছে চুল, টাক পড়ে যাচ্ছে এমন লোকের সংখ্যা অনেক। অনেক সময় শুধু সামনের দিকের চুল পড়ে । আবার অনেক সময় পুরো মাথার চুলই হালকা হয়ে যায়। প্রতিদিন যদি ১০০টি চুল পড়ে তখন মাথা ফাঁকা হতে শুরু করে। চুল ঝরে পড়ার নানা কারণ রয়েছে। প্রচলিত ধারণা আছে, চুল (hair) টেনে বাঁধলে চুল দ্রুত লম্বা হয়। এটি ভুল ধারণা। এতে চুল ঝরে পড়ে দ্রুত। প্রসব পরবর্তী দুই-পাঁচ মাস পর্যন্ত চুল বেশি ঝরতে পারে। তবে এ ব্যাপারে চিকিৎসা নেয়া প্রয়োজন। জ্বর বা অন্যান্য অসুখের সময়ও চুল পড়ে যায়। এ ব্যাপারে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। কিছু দিন পর এ চুল আবার গজিয়ে থাকে।

দীর্ঘ দিন মানসিক দুশ্চিন্তা ও বিষাদগ্রস্ত থাকলে চুল (hair) পড়তে শুরু করে। দুশ্চিন্তা বেশি দিন থাকলে মাথা ফাকা হওয়ার আশঙ্কা বেশি।

কিছু কিছু ওষুধের কারণে চুল বেশি পড়তে পরে। যেমন ইডোমেথাসিন, জেন্টামাইসিন ইত্যাদি। আবার ক্যানসারের ওষুধে চুল খুব বেশি ঝরে যায়।

কম খাওয়া-দাওয়া বা পুষ্টিহীনতাও চুল (hair) পড়ার কারণ। ওজন কমানোর জন্য কম খেতে শুরু করার পর অনেকেরই চুল পড়ে যায়।

আরো পড়ুন  চুল পড়া রোধ করার প্রাকৃতিক উপায় জেনে নিন

খুশকি চুলের একটি বড় শত্রু। চুল পাতলা হওয়ার অন্যতম কারণ খুশকি। মাথা চুলকালে গুঁড়া গুঁড়া খোসা দেখা যাওয়াটাকেই খুশকি বলে। খুশকি দমিয়ে রাখতে পারলে মাথায় যে চুল আছে তা অন্তত ১৫-২০ বছর টিকিয়ে রাখা যাবে। আবার অনেকের মাথার ত্বক তেলতেলে ভাব থাকে। এগুলোর চিকিৎসা প্রয়োজন। পুরুষ হরমোনের প্রভাবেও চুল (hair) পড়ে। তাই টাক পড়ার আগেই চুল ঝরার কারণ নির্ণয় করে সঠিক চিকিৎসা নিন।

যে সব কারণে চুল পড়ে (hair fall) তার আরও কয়েকটি কারণঃ

যেমন গর্ভধারণ

গর্ভধারণ করলে অথবা বাচ্চা হওয়ার পরে প্রচুর চুল (hair) পড়ে। এসময়ে শরীর বিভিন্ন হরমোনজনিত পরিবর্তন আসে। তাই চুল পড়ার হার বেড়ে যায়। তবে এটি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। যে কারণে পরবর্তিতে আবার নতুন চুল গজিয়ে যায়।

শারীরিক চাপ
শরীরের ওপর আকস্মিক কোনো চাপ গেলে অনেক সময় চুল (hair) পড়ে যেতে পারে। যে কোনো ধরণের অপারেশন, হঠাৎ করে কোনো দূর্ঘটনা হওয়া, বড় কোনো অসুস্থতা এমনকি জ্বর হলেও চুল পড়া বেড়ে যায়। যে কোনো ধরণের শারীরিক অসুস্থতা চুলের স্বাভাবিক জীবনচক্রে ব্যাঘাত ঘটায়। যে কারণে চুল পড়ার হার বেড়ে যায়।

মানসিক চাপ
মানসিক চাপের কারণে অনেক সময় চুল পড়ে যায়। বিচ্ছেদ, প্রিয় মানুষের মৃত্যু, এমন কি পরীক্ষার চাপেও চুল পড়া বেড়ে যেতে পারে। সম্পর্কের টানাপোড়েন গেলেও চুলের বৃদ্ধি কমে যায় এবং অনেক চুল (hair) ঝরে যেতে পারে। তাই মানসিক চাপ যতটা সম্ভব এড়ানোর চেষ্টা করুন।

আরো পড়ুন  দ্রুত নতুন চুল গজাতে ও খুশকি দূর করতে আদার প্যাক

প্রোটিনের অভাব
প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোটিনের উপস্থিতি না থাকলে চুল (hair) পড়ার প্রবণতা বাড়তে পারে। কারণ প্রোটিন চুলের গঠনে সহায়তা করে। তাই প্রোটিনের অভাব হলে চুলের বৃদ্ধি কমে যায় এবং চুল (hair) পড়ার হাত বেড়ে যায়। তাই প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় মাছ, মাংস, ডিম ও ডাল জাতীয় খাবার থাকা উচিত।

জানেন কি?
সূর্যরশ্মি হতে চুলকে বাঁচানোর কয়েকটি উপায় জেনে নিন

নিজের চুলে নিজেই করুন ফ্রেঞ্চ বেণী (ভিডিও)

মাত্রাতিরিক্ত ভিটামিন এ
আমেরিকার একাডেমী অফ ডার্মাটোলোজি বলেছে, শরীরে প্রয়োজনের অতিরিক্ত ভিটামিন এ এর উপস্থিতিতে চুল (hair) পড়া বেড়ে যায়। একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের শরীরের দৈনিক ভিটামিন এ এর চাহিদা হচ্ছে ৫০০০ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিট। প্রতিদিন এর বেশি ভিটামিন এ গ্রহণ করলে চুল পড়ার পরিমান বেড়ে যেতে পারে বলে তারা মত দিয়েছেন।

থাইরয়েড হরমোন ঘাটতি
শরীরে থাইরয়েড হরমোনের ঘাটতি হলে একে হাইপোথাইরয়েডিসম বলা হয়। হাইপোথাইরয়েডিসমের কারণে মাথার চুল (hair) পড়ে যায় এবং চুলের বৃদ্ধি কমে যায় বলে অনেক বিশেষজ্ঞের ধারণা।

আরো পড়ুন  সারাজীবনের জন্যে চুল পড়া বন্ধ হবে শুধু মাত্র কয়েকবার ব্যাবহারেই

অতিরিক্ত স্টাইল
এমনও দেখা যায় অনেক সময় চুলের অতিরিক্ত স্টাইল করতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত সাধের চুল গুলোই হারাতে হয়। নিয়মিত চুল রঙ করা, স্ট্রেইট করা, রিবন্ডিং, জেল অথবা হেয়ার স্প্রে লাগালে চুলের স্বাস্থ্য খারাপ হয়ে যায় এবং অনেক সময় চুল (hair) পড়া বেড়ে যায়।

অস্বাভাবিক ওজনহ্রাস
অতিরিক্ত ওজনও একটি বড় সমস্যা। অতিরিক্ত ডায়েটিং এর কারণে হঠাৎ অস্বাভাবিক ওজন হ্রাস হলে চুল পড়া বেড়ে যেতে পারে। ওজন কমাতে সকালের নাস্তা ও রাতের খাবার বাদ দিলে অথবা পুষ্টিকর খাবার না খেলে চুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চুলে (hair) প্রয়োজনীয় পুষ্টির অভাব হলে চুলের বৃদ্ধি ব্যাহত হয় এবং চুল পড়া বেড়ে যেতে পারে।

শেষ কথা
তাই সব সময় খেয়াল রাখতে হবে সবদিকে। উপরোক্ত সমস্যাগুলো যাতে আমাদের সামনে এসে হাজির না হয় সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে। সকলকেই মনে রাখতে হবে, চুল (hair)  পড়া রোধ করতে নিয়ম মানতেই হবে। নইলে এক সময় আমাদের সাধের চুলগুলো আর মাথায় থাকবে না। তাই সময় থাকতেই সজাগ হোন। সূত্র: ইন্টারনেট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *