জ্বর হলে সাথে সাথে নাপা প্যারাসিটামল জাতীয় এন্টিপাইরেটিক খাওয়া কি আদৌ উচিত?

জ্বর (যা পাইরেক্সিয়া নামেও পরিচিত[১]) হচ্ছে শারীরিক অসুস্থতার অন্যতম প্রধান লক্ষ্মণ, যা শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রার সীমার ৩৬–৩৭.২ °সে (৯৬.৮–৯৯.০ °ফা) অধিক তাপমাত্রা নির্দেশ করে।

শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি সত্ত্বেও সাধারণত ঠান্ডা অনুভূত হয়। উচ্চ নির্দিষ্ট সূচক (set point) থেকে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হলে গরম অনুভূত হয়।

অনেক কারণেই জ্বর হতে পারে। কিছু তথ্য থেকে জানা যায় উচ্চ তাপমাত্রায় শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, যদিও, জ্বরের উপকারিতা নিয়ে যথেষ্ট বিতর্ক আছে। তবে অ্যান্টিপাইরেটিক ওষুধ ব্যবহার করে জ্বর কমানো যায়।

অনিয়ন্ত্রিত হাইপারথার্মিয়ার সাথে জ্বরের পার্থক্য আছে; সেটা হল, হাইপারথার্মিয়া দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রক সূচকের অতিরিক্ত তাপমাত্রার ফল।

জ্বরের প্রকারভেদ

তাপমাত্রা পরিবর্তনের ধরন রোগের উপর নির্ভরশীল: জ্বর এর পরিবর্তনের ধরন থেকেই কখনো কখনো রোগ নির্ণয় সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারেঃ

•একটানা জ্বরঃ সারাদিন ধরে শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকে এবং ২৪ ঘণ্টায় ১0 সে. এর বেশি তাপমাত্রার পরিবর্তন হয় না। যেমনঃ লোবার নিউমোনিয়া, টাইফয়েড, মূত্রনালির ইনফেকশন, ব্রুসেলসিস, টাইফাস ইত্যাদি রোগের ক্ষেত্রে একটানা জ্বর পরিলক্ষিত হয়। টাইফয়েড রোগের ক্ষেত্রে জ্বরের একটি নির্দিষ্ট আঙ্গিক দেখা যায়। জ্বর ধাপে ধাপে বাড়ে এবং উচ্চ তাপমাত্রা অনেকক্ষণ থাকে।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

আরো পড়ুন  ব্যায়াম ডায়েট ছাড়াই ওজন কমিয়ে ফেলুন ৬ টি সহজ উপায়ে

•নির্দিষ্ট বিরতিতে জ্বরঃ জ্বর একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বাড়ে এবং পরে তাপমাত্রা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যায়, যেমনঃ ম্যালেরিয়া, কালাজ্বর (kala-azar), পাইয়েমিয়া, সেপ্টিসেমিয়া (রক্তের সংক্রমন)। এর প্রকারভেদগুলো হলঃ

*কুয়োটিডিয়ান জ্বর, যার পর্যায়কাল হল ২৪ ঘণ্টা, সাধারণত ম্যালেরিয়ার ক্ষেত্রে দেখা যায়।

*টারশিয়ান জ্বর, যার পর্যায়কাল ৪৮ ঘণ্টা, এটিও ম্যালেরিয়ার ক্ষেত্রে দেখা যায়।

*কোয়ার্টান জ্বর, যার পর্যায়কাল ৭২ ঘণ্টা, এটি দেখা যায় Plasmodium malariae জীবাণুর ক্ষেত্রে।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

•স্বল্প বিরতিতে জ্বরঃ শরীরের তাপমাত্রা সারদিন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকে এবং ২৪ ঘণ্টায় ১0 সে. এর চেয়ে বেশি উঠা নামা করে। যেমনঃ infective endocarditis.

•Pel-Ebstein জ্বরঃ এই বিশেষ ধরনের জ্বরটি হজকিন লিম্ফোমা এর ক্ষেত্রে দেখা যায়। জ্বর এক সপ্তাহ বেশি, এক সপ্তাহ কম- এভাবে চলতে থাকে। তবে আদৌ এ ধরনের জ্বর বিদ্যমান কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

দেহের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার অবর্তমানে এক ধরনের জ্বর দেখা যায় যাকে বলা হয় “ফিব্রাইল নিউট্রোপেনিয়া ” ।এক্ষেত্রে রোগ প্রতিরোধী নিউট্রোফিল এর অভাবে ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমন তাড়াতাড়ি ছড়িয়ে পরে। তাই এই রোগের জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন। যেসব রোগীর কেমোথেরাপি চিকিৎসা চলছে যা কিনা দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয় তাদের ক্ষেত্রে এই রোগ বেশি দেখা যায়।

Febricula, এটি একটি প্রাচীন শব্দ যা এমন ধরনের জ্বরের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় যখন তাপমাত্রা বেশি উঠে না এবং বিশেষ করে যখন জ্বরের কারণ অজানা থাকে। এ ধরনের জ্বর থেকে রোগী এক সপ্তাহে সেরে ওঠে।

জ্বর হলে সাথে সাথে নাপা প্যারাসিটামল জাতীয় এন্টিপাইরেটিক খাওয়া কি আদৌ উচিত?

অজানা কিছু ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত ! (পর্ব ১)

(ভুল ১) ঃ জ্বর হলে সাথে সাথে নাপা প্যারাসিটামল জাতীয় এন্টিপাইরেটিক খাওয়া।
শরীরে জীবানুর উপস্থিতি যখন আমাদের immune system টের পায় সাথে সাথে জীবানুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করে৷ তখন শরীরের রক্ত সঞ্চালন বেড়ে যায়, শরীরের প্রতিটা অর্গান সংগবদ্ধভাবে দ্রুত কাজ করা শুরু করে, লিভার এবং কিডনী শরীরের অপ্রয়োজনীয় (wastes) পদার্থ বের করে দেওয়ার চেষ্টা করে।

জ্বর এর ফলে যে তাপমাত্রা তৈরি হয়, সেই তাপমাত্রা বেশ কয়েকটা উপকার করে।

১) শরীরের সকল বর্জ্য পদার্থ পুড়িয়ে ফেলে।
২) জীবানুকে দুর্বল করে দেয়, এবং বংশ বৃদ্ধি বন্ধ করে দেয়।
৩) রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
আমরা জ্বর হলে (না বুঝে) এন্টি-পাইরেটিক ( নাপা –
প্যারাসিটামল) খাওয়া শুরু করি। এই সকল মেডিসিন vasodilation প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জোর পূর্বক ঘাম তৈরি করে শরীরের তাপমাত্রা কমায় অথবা prostaglandin (জ্বরের সিগন্যাল) বন্ধ করে দেয়। ফলে জীবানু বরং বংশ বিস্তারে সুযোগ পেয়ে যায়……
অপরদিকে প্রাকৃতিক জ্বর নাশক যেমন কালোমেঘ ও নিমপাতা cytotoxic T cells, natural killer (NK) cells, phagocytosis, and antibody-dependent cell-mediated cytotoxicity (ADCC). গুণ বৃদ্ধি করে (immune system কে সাহায্য করে) এর কারণে খুব দ্রুত শরীরে ভাইরাস প্রবেশ করলেও Replication বন্ধ করে দেয় এবং ভাইরাস নিস্তেজ হয়ে যায়।

আরো পড়ুন  সহবাসের আগে একবার খাবেন তারপর রাতভর সহ'বাস করতে পারবেন কোন পতন ছাড়াই

কালোমেঘ ও নিমপাতা ভেষজ চিকিৎসার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়


প্রাথমিক পর্যায়ে জ্বর শরীরের জন্য উপকারী (কারণ উপরে উল্লেখ করা হয়েছে)। কালমেঘ, নিমপাতা জীবানুর বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে যুদ্ধ বাড়িয়ে দেয় (তাপমাত্রা একই থাকে অথবা কমাতে শুরু করে) তবে পুরোপুরি তাপমাত্রা কমে না যতক্ষন না জীবানু শরীর থেকে চলে যায় অথবা নিস্তেজ হয়ে যায়। এক্ষেত্রে (জ্বর সর্বোচ্চ ৩ থেকে ৫ দিন থাকতে পারে)।
তাই মহা সংকটকালীন সময়ে জ্বর হলেই নাপা – প্যারাসিটামল খাওয়ার চিন্তা বাদ দিয়ে প্রাকৃতিক কোন জ্বর নাশক নেওয়া ই অধিক যুক্তিযুক্ত।

বিঃদ্রঃ কেঊ যদি মনে করে আমি কালমেঘ নিম পাতা ও খাব আবার (এন্টিপাইরেটিক এলোপ্যাথি) মেডিসিন খাব তবে শরীরে বিপরীতমুখী প্রতিক্রিয়া শুরু হয় (এলোপ্যাথিক এন্টিপাইরেটিক ম্যাকানিজম ও নিম – কালমেঘ জ্বর নাশক ম্যাকানিজম আলাদা হওয়ার কারণে, (বিস্তারিত উপরে উল্লেখ আছে)। তাই এক্ষেত্রে খুব সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.