স্বতীচ্ছদ

কীভাবে বুঝবেন আপনার স্বতীচ্ছদ ফেটে গেছে কিনা – লজ্জ্বা নয় জানাতে হবে

হাইমেন শব্দটি গ্রীক ভাষা থেকে এসেছে। যার বাংলা অর্থ স্বতীচ্ছদ। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় হাইমেন বা স্বতীচ্ছদ অর্ধচন্দ্রাকার একপ্রকার শ্লৈষ্মিক ঝিল্লী যা স্ত্রী যোনিমূখ ঘিরে থাকে। এটি শরীরের অতি জরুরী অঙ্গের একটি। বয়স যত বাড়তে থাকে স্বতীচ্ছদের মুখ/ছিদ্র ক্রমশঃ বড় হতে থাকে। এটি যোনীমুখের একদম সামনের দিকে অবস্থিত। দুই পা সম্পুর্ন ছড়িয়ে দিয়ে ছোট একটি আয়না সামনে রেখে আপনি এ পর্দটি নিজেই দেখতে পারেন। যদিও চিকিৎসা বিজ্ঞান বলেছে এটি নিছক একটি আংশিক আবরনকারী পর্দা – এমনকি অনেক নারী এ পর্দা ছাড়াও জন্ম গ্রহন করেন অথবা সাঁতার, খেলাধুলা সহ দৈনন্দিন কাজ কর্মের ফলে এটি চিরে যায়, তারপরও পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এ অঙ্গ এখনো নারীর স্বতীত্বের প্রতিক হিসেবে বিবেচনা করা হয় – যা সম্পুর্ন ভিত্তিহীন।

আরো পড়ুন  স্ত্রী সংগমের শুরুতে কোন দোয়া পড়তে হবে?

কীভাবে বুঝবেন আপনার স্বতীচ্ছদ ফেটে গেছে কিনা :

• একজন ডাক্তারই সঠিকভাবে বলতে পারবেন আপনার স্বতীচ্ছদ (Hypothesis) ফেটে গেছে কিনা। যাইহোক, কিছু লক্ষণ থেকে আপনি অনুমান করতে পারেন স্বতীচ্ছদ  (Hypothesis) সত্যিকারেই ফেটে গেছে নাকি এখনো বিদ্যমনঃ

• দুই পা ফাঁক করে বসুন। এবার আঙুলের সাহায্যে ভগাঙ্কুরের ভাজ দুটিকে দুই দিকে সরিয়ে ধরুন এবং ছোট একটি আয়না যোনীর সামনে রেখে লক্ষ করুন রিং আকারের পাতলা একটি পর্দা দেখতে পান কিনা? যদি দেখা যায় তবে বুঝবেন আপনার স্বতীচ্ছদ(Hypothesis) এখনো ঠিক আছে।

• আপনি চাইলে আস্তে (জোরে চাপ না দিয়ে) আস্তে মধ্যমা আঙুল যোনীতে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করুন। যদি আঙুল স্বাভাবিক ভাবে ১ থেকে ১.৫ ইঞ্চির বেশি না ঢুকে এবং মনে হয় কিছু একটা জিনিস আপনার আঙুলকে পিছনের দিকে ঠেলে বাহির করে দিচ্ছে, তাহলে ধরে নিতে পারেন আপনার স্বতীচ্ছদ (Hypothesis) বিদ্যমান আছে।

আরো পড়ুন  পাওয়ার ৩০ এবং টার্গেট ট্যাবলেট ২টার মধ্যে কোনটা দিয়ে বেশিসময় যৌনমিলন করা যাবে?

• স্বতীচ্ছদ ছিড়ে যাবার সময় রক্তপাত হয় এবং সামান্য ব্যথা-যন্ত্রনা অনুভুত হয় এবং সে থেকে জানতে পারেন আপনার স্বতীচ্ছদ(Hypothesis) কবে ফেটেছিল।

স্বতীচ্ছদ পুনঃপ্রতিষ্ঠা কিংবা মেরামত করাঃ

নরীর স্বতীচ্ছদ (Hypothesis) শাররীক মিলন অথবা সাঁতার, শরীরচর্চা, খেলাধুলা ইত্যাদি থেকে ফেটে যেতে পারে। tampon ব্যবহারের ফলেও অনেক সময় স্বতীচ্ছদ(Hypothesis) ফেটে যায়। চিরে কিংবা ফেটে যাবার পর হাইমেনোপ্লাষ্টি দ্বারা স্বতীচ্ছদ পুনরায় মেরামত বা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

প্রথম মিলনে নারী ব্যাথা পাওয়ার কারণ | Pain in First Time

হাইমেনোপ্লাষ্টি সাধারনত জাতিগত, সাংস্কৃতিক বা ধর্মীয় বিশ্বাসের কারনে করে থাকে যার মধ্যে “স্বতীচ্ছদ (Hypothesis) নারী স্বতীত্বের প্রমান” এমন গুরুত্বপুর্ন ধারনা কারন হিসেবে নিহিত থাকে। হাইমেনোপ্লাষ্টি দ্বারা ছিদ্রহীন স্বতীচ্ছদেরও(Hypothesis) অস্ত্রপ্রচার হয়ে থাকে।

আরো পড়ুন  আমার পিরিয়ডে প্রচন্ড ব্যথা হয়।আমার প্রশ্ন হলো এই ব্যথা হলে কি তারাতারি বিয়ে করতে হয়? দয়াকরে জানাবেন

স্বতীচ্ছদ সত্যিকার বিষয়গুলিঃ
• প্রতি ১০০০ হাজার মেয়ে শিশুর ১ জন স্বতীচ্ছদ (Hypothesis) ছাড়াই ভুমিষ্ঠ হয়।
• শতকরা ৪৪% নারীর-ই প্রথমবার মিলনে কোন প্রকার রক্তপাত হয়না।
• স্বতীচ্ছদ খেলাধুলা কিংবা অন্যকোন কারণে প্রাকৃতিকভাবেই ফেটে যেতে পারে।
• মাসিক ঋজঃস্রাবের সময় স্বতীচ্ছদে (Hypothesis) অবস্থিত ছিদ্র রক্ত প্রবাহকে স্বাভাবিক রাখতে প্রাকৃতিক ভাবেই বড় হয়ে যায়।
• Tampon (টেমপুন) ব্যবহারের ফলে স্বতীচ্ছদ ছিড়ে যেতে পারে।
• অনেক নারী যাদের ছোট কিংবা ইলাষ্টিক টাইপ স্বতীচ্ছদ (Hypothesis) থাকে তাদের কখনো স্বতীচ্ছদ ফাটে না। এমনকি সন্তান জন্ম দেবার পরও স্বতীচ্ছদ অক্ষত থাকে।
• স্বতীচ্ছদ ফাটলেই রক্তক্ষরণ হবে – এটি ভুল ধারনা। রক্তক্ষরণ ছাড়াও স্বতীচ্ছদ চিরে যেতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *