যে ভাবে প্রস্তুতি নিবেন প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা-২০১৯

যে ভাবে প্রস্তুতি নিবেন প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা (exam)-২০১৯.  মোট ১০০ নম্বরের মধ্যে প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে চাকুরীর জন্য প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে। এই ১০০ নম্বরের মধ্যে ৮০ নম্বরের MCQ পদ্ধতির পরীক্ষা, বাকী ২০ নম্বরের ভাইভা।

MCQ পরীক্ষায় চারটি বিষয়ের উপর ২০ টি করে প্রশ্ন হবে: বাংলা, ইংরেজি,সাধারণ জ্ঞান (general knowledge) , গণিত। যারা এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবেন, তারাই মৌখিক পরীক্ষায় ( ভাইভা) অংশগ্রহণ করার সুযোগ পাবেন।

ইংরেজি

অন্য প্রতিযোগীদের তুলনায় এগিয়ে থাকতে চাইলে ইংরেজির ওপর সুস্পষ্ট দখল নিশ্চিত করার বিকল্প নেই। তাই এ লক্ষ্যে কাজ শুরু করে দিন আজই।

>English for competitive exam

by, fazlul haque.( এই বইটা (book) পড়লে যেকোন পরীক্ষায় বসার মত ইংরেজির প্রস্তুতি হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বিগত বছরের প্রশ্নও এতে কভার হয়ে যাবে- সে অর্থে এটিকে ইংরেজির জব সল্যুশনস ও বলা চলে)

২. saifur’s vocabulary (এই বইটি (book) ভালমতো আত্মস্থ করতে পারলে অন্তত ভোকাবুলারি নিয়ে যে আপনাকে আর ভাবতে হবে না, তা সাইফুর স্যারের হেটার্সরাও অবলীলায় মেনে নিবেন।

৩. চৌধুরী এন্ড হোসাইন স্যার লিখিত advanced learners বইটির সম্পূর্ণ গ্রামার অংশ। ( সুবিধা হল এই বইটি আমাদের প্রায় সবারই আগে থেকে পড়া আছে, তাই পড়াটা সহজ হবে, যারা এসএসসি বা ইন্টার লেভেলে অন্য বই ফলো করেছিলেন, সেই বইটি (book) থেকেই কভার করতে পারেন)

আরো পড়ুন  তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত এখন আর পরীক্ষা থাকছে না

বাংলাঃ

ক্লাস ওয়ান থেকে শুরু করে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত আবশ্যিক বাংলা বইয়ে (book) যেসব কবি সাহিত্যিকের গল্প-কবিতা রয়েছে, তাদের জীবন ও সাহিত্যকর্ম সম্পর্কে বিস্তারিত ( ছন্দেছন্দে বা অদ্যাক্ষর দিয়ে সাহিত্যকর্ম মুখস্ত রাখতে গেলে বড় ধরনের প্যারায়ই পড়তে হবে, এ ব্যাপারে শতভাগ নিশ্চিত থাকুন। কারন একসময় দেখবেন, এক কবি/ সাহিত্যিকের সাথে অন্যজনের ছন্দ মিলে গিয়ে পুরো তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছে। আর অদ্যাক্ষর মুখস্থকারীরা দেখবেন, একপর্যায় একই অক্ষরে কয়েকটা করে সাহিত্যকর্ম এর নাম চলে আসছে। এক্ষেত্রে আমি মনে করি এ ধরনের ছন্দ বা অদ্যাক্ষরের টোটকা বা শর্ট টেকনিক দিয়ে জোর করে কোন কিছু মুখস্থ রাখার চিন্তা মাথা থেকে ঝেরে ফেলে

পঠিতব্য সাহিত্যকর্ম গুলোর ওপর বারবার সতর্ক চোখ বোলাতে থাকুন। সম্ভব হলে একজন শব্দ করে পড়ুন, অন্যরা শুনুন, বা নিজেই গুনগুন করে পড়ুন, আবার নজর বোলান।

এভাবে একবার, একশবার, হাজারবার। ইনশাআল্লাহ কোন সাহিত্যকর্ম নাম শুনলে বলে দিতে পারবেন, কার লেখা, কখন লেখা, কি প্রকৃতির লেখাসহ প্রয়োজনীয় আঙ্গিকসমুহ।

আরো পড়ুন  প্রাথমিকে নিয়োগ পরীক্ষার প্রবেশপত্র পাবেন যেভাবে

>>শুধু ব্যাকরনের জন্য নবম-দশম শ্রেনীর ব্যাকরন বই (book) ( প্রথম থেকে শেষলাইন ঠোটস্থ করে নিন) এর পাশাপাশি সৌমিত্র শেখর স্যারের জিজ্ঞাসা ( এই বই থেকে শুধু সাহিত্য অংশ দেখুন, ব্যাকরণ অংশ কোনকোন ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয়, অপ্রাসঙ্গিক লেখায় ভরা ( একটু খেয়াল করে দেখলে নিজেই বুঝবেন) কথাগুলো কি একটু বামনের চাঁদে হাত টাইপের ব্যাপার হয়ে গেল!!! স্যরি, স্যার। তবে আমি নিজে পড়তে যেয়ে যা মনে হইছে, তা-ই বললাম।

সাধারণ জ্ঞানঃ (general knowledge)

বেশিরভাগ মানুষ সাধারণ জ্ঞান (general knowledge) বলতে আজকের বিশ্ব, নতুন বিশ্ব বইকেই বুঝেন। এসব বইয়ের (book) ক্ষেত্রে আমার মূল্যায়ন হল, এটাইপের বই চাকুরির পরীক্ষার জন্য যতটা না প্রস্তুত করবে, তারচেয়ে বেশি পিছিয়ে দিবে।

কারন ২/৩ মাস সময় নিয়ে একবার পড়ে আসার পর যখন দেখবেন সব ভুলে বসে আছেন, তখন হতাশায় পেয়ে বসার মতো বৃহৎ ক্ষতির সম্ভাবনা ও আছে। এক্ষেত্রে আমি মনে করি-

>>নীলক্ষেতে দেখবেন সাম্প্রতিক সাধারন জ্ঞান টাইপ নামের ৪০/৫০ পৃষ্ঠার কিছু বই (book) পাওয়া যায়, ওখান থেকে ২/৩ টা কিনে নিন।

>>বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবন সম্পর্কে ভালমতো জেনে নিন। ( নির্দিষ্ট কোন বই (book) না পড়ে উইকিপিডিয়া থেকে সার্চ দিয়ে রিলেটেড টপিক প্রিন্ট করে নিতে পারেন।)

আরো পড়ুন  স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের পরীক্ষার তারিখ ১৭ এপ্রিল

>>দিনে কমপক্ষে একবার হলেও আপনার পছন্দের যে কোন একটি চ্যানেলের সংবাদ মনযোগ দিয়ে শুনুন।

>>একটি বাংলা দৈনিক পত্রিকা রাখুন। ( আমি প্রথম আলোই পড়ি)। খেলার পাতা, নকশা, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক হালচাল, ন্যান্সির ফ্রিটজি খালার অঙ্গসৌষ্ঠব দেখার অভ্যেস থাকলে সেটি বাদ দিন।( না দেখে থাকলে একবার দেখে নিতে পারেন, না হয় সেই কৌতূহলে আবার পড়ায় মন না বসে!!)

>>নবম শ্রেনির বাংলাদেশে ও বিশ্ব পরিচয়

বইটি (book) ভালমত পড়ে নিন। মৌলিক বিষয়াবলী সম্পর্কে সম্যক ধারনা পাবেন।

গণিতঃ
>>৪র্থ/৫ম শ্রেণী থেকে নবম শ্রেণী পর্যন্ত পাঠ্যবইগুলো কোন অভিজ্ঞ টিচার/ বড়ভাইয়ের সহযোগিতা নিয়ে ধীরে ধীরে হজম করতে থাকুন। ( দুচারদিন পর ধৈর্যহারা হয়ে আমাকে গালিগালাজ শুরু কইরেন না)

পাটিগণিত ও বীজ গনিতের প্রিলির প্রশ্নের একটা বড় অংশই ব্যাকসলভিং মেথডে করা যায়। তাই এই পদ্ধতিতে দক্ষতা অর্জন করতে পারলে প্রস্তুতি পর্বের পরিধি কমে আসবে নিঃসন্দেহে

[ব্যাকসলভিং মেথড কি, খায়, না মাথায় দেয়….., এ বিষয়ে যারা গণ্ডমূর্খ ( আমি নিজে আগে যেমনটা ছিলাম) জানেন না, জানার উপায়ও নেই, তারা পলাশির মোড়ে হাজির হয়ে যাইয়েন, এককাপ চা খেতে খেতে…..]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *