মধু ও লেবুর রস মুখে দিলে কি হয়

মধু (honey) হল এক প্রকারের মিষ্টি ও ঘন তরল পদার্থ, যা মৌমাছি ও অন্যান্য পতঙ্গ ফুলের নির্যাস হতে তৈরি করে এবং মৌচাকে সংরক্ষণ করে।এটি উচ্চ ঔষধিগুণ সম্পন্ন একটি ভেষজ তরল ; এটি সুপেয়। বিভিন্ন খাদ্য প্রস্তুতিতে এর ব্যবহারে চিনির চেয়ে এর অনেক সুবিধা রয়েছে। এর বিশিষ্ট গন্ধের জন্য অনেকে চিনির চাইতে মধুকেই পছন্দ করে থাকেন। বাংলাদেশের সুন্দরবনের মধু (honey) স্বাদ, রং, হালকা সুগন্ধ এবং ঔষধিগুণাবলীর জন্য প্রসিদ্ধ। সুন্দরবনের বেশীরভাগ মধু (honey) কেওড়া গাছের ফুল থেকে উৎপন্ন। সুন্দরবনের মাওয়ালী সম্প্রদায়ের লোকেরা মৌচাক থেকে মধু সংগ্রহ করে এবং তা বিক্রয় করে জীবন নির্বাহ করে। মধুর অন্য একটি গুণ হল এটি কখনো নষ্ট হয় না৷ হাজার বছরেও মধুর গুণাগুণ নষ্ট হয় না।

লেবু হল সাইট্রাস লিমন (Citrus limon) সাধারণ নাম। বংশবৃদ্ধিকারী টিস্যু আবৃতবীজী লেবুর বীজকে ঘিরে রাখে। লেবু রান্না করে বা রান্না না করে – উভয়ভাবেই খাওয়া হয়। ফল এর কদর মূলত রসের জন্যেই , যদিও এর শাঁস ও খোসাও ব্যবহৃত হয়, প্রধানত রান্না ও বেকারির কাজে। লেবুর রসে (lemon juice) প্রায় ৫ শতাংশ (প্রতি লিটারে ০.৩ মোলের কাছাকাছি) সাইট্রিক এসিড থাকে যার কারণে এর স্বাদ টক হয় এবং pH ২-৩ হয়

সৌন্দর্য ও রূপ সচেতনদের জন্য শৈলীর নিয়মিত বিভাগ ‘সৌন্দর্য সমাধান’। রূপ বিশেষজ্ঞ ফারনাজ আলম আপনার সৌন্দর্য বিষয়ক জিজ্ঞাসা, সমস্যা ও প্রশ্নের উত্তর দেবেন শৈলীতে। সমস্যা আপনার সমাধান আমাদের।

আরো পড়ুন  দৈনন্দিন জীবনে মধুর ১০টি ব্যবহার জেনে নিন

প্রশ্ন :চোখের পাশের বলিরেখা মোছার কোনো উপায় আছে কি?

উত্তর :১ টেবিল চামচ মধু হালকা গরম করে নিন। এই গরম মধুর (honey) সঙ্গে একটা ডিমের কুসুম ভালো করে মেশান। সঙ্গে যোগ করুন মিহি করে গুঁড়া করা ওটস ১ টেবিল চামচ। মিশ্রণ বেশি ঘন হয়ে গেলে কাঁচা দুধ যোগ করুন। এবার মিশ্রণ চোখের আশপাশে মেখে রাখুন ঠিক ১০ মিনিট। একটুও বেশি রাখবেন না। ১০ মিনিট পর প্রথমে উষ্ণ পানি ও পরে সাধারণ পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। মাত্র এক মাস অবলম্বন করে দেখুন এই পদ্ধতিগুলো সপ্তাহে ৩ বার ব্যবহার করে।

 প্রশ্ন :আমার চুল কালার করার পর অনেক রাফ হয়ে গেছে। উজ্জ্বলতা একেবারেই নেই। আমি এখন কী করতে পারি?

উত্তর ; আপনাকে ভিটামিন কালার লক ট্রিটমেন্ট নিতে হবে। এতে আপনার কালার ফেড হবে না এবং চুল থাকবে মসৃণ ও উজ্জ্বল।

প্রশ্ন :আমার বয়স এত বেশি না, কিন্তু কিছুদিন ধরে লক্ষ্য করছি আমার স্কিনে রিঙ্কেলের মতো। আমি কী করতে পারি?

উত্তর :সাধারণত আমরা ধরেই নিই বয়স হলেই রিঙ্কেল পড়বে; কিন্তু স্কিনের সমস্যার কারণেও রিঙ্কেল পড়ে। তাই আপনাকে অ্যান্টি এজিং ফেসিয়াল নিতে হবে। তাতে আপনার স্কিন রিঙ্কেল পড়া থেকে প্রটেক্ট করবে।

আরো পড়ুন  ত্বক উজ্জ্বল করতে মধুর ব্যবহার

প্রশ্ন :গরমকালে শুষ্ক ত্বকের যত্ন কীভাবে নেব?

উত্তর :প্রতিদিনের ব্যবহারে ক্লিঞ্জিং ফেসওয়াশ দিয়ে ত্বক পরিষ্কার করে নিন। গাজর, কলা, সামান্য পরিমাণ মসুর ডাল। টক দই মিশিয়ে পেস্ট বানিয়ে মুখে লাগিয়ে ধুয়ে ফেলুন। রাতে ঘুমানোর আগে অবশ্যই ভালো মানের ময়েশ্চারাইজার ক্রিম ব্যবহার করুন।

প্রশ্ন :কনুইয়ের অংশে অনেক সময় কালো ছোপ পড়ে যায়। এই কালো ছোপ দূর করার কোনো উপায় আছে কি?

 উত্তর :মধু ও লেবুর রসলেবুর রস একসঙ্গে মিশিয়ে আলতো করে ঘষুন। তারপর দুধ, মধু, (honey) লেবুর রস,লেবুর রস মসুর ডাল একসঙ্গে মিশিয়ে একটু ঘন পেস্টের মতো করে লাগিয়ে নিন। প্রতিদিনের ব্যবহারে সুফল পাবেন এবং কালো ছোপ কমে যাবে।

প্রশ্ন :বল্গ্যাক হেডস দূর করতে কী করতে পারি?

উত্তর :পোলাও চাল ও মুগডাল আধা ভাঙা করে তার সঙ্গে মধু (honey) মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। এটি ১০-১৫ মিনিট মুখে লাগিয়ে রাখার পর যেসব জায়গায় বল্গ্যাক হেডস বেশি সেখানে হালকা ঘষে তুলে ফেলুন। এ ছাড়া ডিমের সাদা অংশ ও বেকিং সোডার মিশ্রণ মুখে কিছুক্ষণ লাগিয়ে টিস্যু পেপার দিয়ে চাপ দিলে বল্গ্যাক হেডস সহজে উঠে আসবে।

আরো পড়ুন  স্বর্গীয় ফল কাঁকরোল খাওয়ার ৯টি উপকারিতা

প্রশ্ন :মুখের ব্রণের কালো দাগ দূর করতে কী করব?

উত্তর :কাঁচা ব্রণে সমপরিমাণ লবঙ্গ, তুলসীপাতা, নিমপাতা, পুদিনা পাতা একসঙ্গে পেস্ট করে কিছুক্ষণ লাগিয়ে রাখলে সেখানে দাগ হবে না। ব্রণ শুকিয়ে যাওয়ার পর মুখে চিনি আর দারুচিনি বাটা একসঙ্গে পেস্ট করে লাগাতে পারেন। লবঙ্গ বা দারুচিনি ত্বকে লাগানোর পর একটু জ্বালা করবে। এতে কোনো ক্ষতি নেই।

প্রশ্ন :চোখের কালি (eye spot) দূর করার কোনো উপায় আছে কি?

 উত্তর :শসা বা আলু ছেঁচে চোখের ওপর ২০ মিনিট রেখে দিন। এ ছাড়াও বাবহৃত টি-ব্যাগ কিছুক্ষণ চোখের ওপর রেখে দিলেও কাজে দেবে। পেস্তাবাদাম বাটার সঙ্গে অল্প মধু (honey) লাগিয়ে ব্যবহার করলেও চোখের কালি(eye spot) দূর হয়।

প্রশ্ন :ত্বককে কোমল ও মসৃণ করে তোলার জন্য কী ব্যবহার করতে পারি?

উত্তর :এক টেবিল চামচ মিহিদানার চিনি, এক টেবিল চামচ চালের গুঁড়া, এক চা চামচ কাঠবাদামের গুঁড়া পরিমাণমতো গ্রিন টি ও গোলাপজল একসঙ্গে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে নিন। এবার মিশ্রণটি মুখে ও গলায় ভালো করে লাগিয়ে নিন। শুকানো পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। শুকিয়ে গেলে ঘষে ধুয়ে ফেলুন। মরা কোষ সহজে দূর হয়ে যাবে। ত্বক হয়ে উঠবে কোমল ও মসৃণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *