ব্রণ দূর করার ১২টি জাদুকরী মাস্ক রেসিপি

ব্রণ /পিম্পল/ একনে যেন এক দুঃস্বপ্নের নাম। অনেক সময় হরমোনাল কারণে, মেকআপ(Makeup) ঠিক মতো রিমুভ না করার কারণে, অতিরিক্ত তেল-চর্বি জাতীয় খাবার গ্রহণ আর ঘুম কম হওয়ার কারণে, মাথায় খুশকির সমস্যা(Dosh problem) থাকলে স্কিনে ব্রণের আবির্ভাব ঘটে।ব্রণ কিন্তু একদিনে সারার জিনিস না। কাজেই একরাতের ভিতর চট করে ব্রণ সেরে যাবে কোন কোম্পানির এমন চটকদার বিজ্ঞাপন দেখে টাকা নষ্ট করে সেই সব হার্মফুল কেমিক্যালযুক্ত প্রোডাক্ট না কিনে, ধৈর্য্য ধরে প্রাকৃতিকভাবে ব্রণ(Acne) সারানোর চেষ্টা করাটাই ভালো হবে। এখানে আমি ঘরোয়া পদ্ধতিতে ব্রণ(Acne) সারিয়ে তোলার কিছু মেথড বর্ণনা করছি। ব্রণের রিমেডি কিন্তু সময়সাপেক্ষ। চট করে এক রাতেই ব্রণ হাওয়ায় মিলিয়ে যাবে না। ধৈর্য্য ধরে চেষ্টা করতে হবে।

(১) টি ট্রি অয়েল আর মধুর বাম
ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে বের করতে হয় এমন একটি পুরানো লিপবামের কৌটা ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে নিন।৩ চা চামচ খাঁটি মধু(Honey) আর ১০-১৫ ফোঁটা টি ট্রি অয়েল(T-tree oil) একটি বাটিতে নিয়ে মিক্স করে ঐ খালি লিপবামের কৌটায় ঢেলে দিন। ফ্রিজে রেখে দিন যেন বামটা জমে যায়। এবার প্রতি রাতে মুখ ধোয়ার পর পরিষ্কার টিস্যু দিয়ে মুখ মুছে ঐ বাম টা ফ্রিজ থেকে বের করে ব্রণে আক্রান্ত স্থান গুলোতে লাগিয়ে নিন। সকালে উঠে মুখ(Face) ধুয়ে ফেলুন।

(২) অ্যালোভেরা জেল
ফ্রেশ পাতা থেকে অ্যালোভেরার শ্বাস বের করে ব্রণের উপর লাগিয়ে রাখুন কমপক্ষে আধা-এক ঘণ্টা। তারপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। প্রতিদিন লাগাতে পারবেন।

আরো পড়ুন  ফেসিয়াল হেয়ার তোলার কিছু ঘরোয়া সহজ উপায় জেনে নিন

(৩) অ্যাপল সাইডার ভিনেগার
রাতে ঘুমাতে যাবার আগে এক চা চামচ খাঁটি আনফিল্টার্ড অ্যাপল সাইডার ভিনেগার(Apple Sider Vinegar) আর ৩ চা চামচ পানি মিক্স করে এক টুকরো পরিষ্কার তুলোর বল ঐ মিশ্রণে ভিজিয়ে ব্রণের উপর লাগিয়ে সারা রাত রেখে দিন। সকালে উঠে মুখ ধুয়ে ফেলুন। দিনে যদি বাসার বাইরে না যান তাহলে দিনে ও লাগাতে পারেন, কমপক্ষে ২০ মিনিট স্কিনে রাখতে হবে।অ্যাপল সাইডার ভিনেগার (Vinegar) স্কিনের পি এইচ ব্যালেন্স ঠিক করতে সাহায্য করে এবং ব্রণ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়াকে দূর করে।

(৪) মধু আর দারুচিনির মাস্ক
৩ চা চামচ খাঁটি মধু আর ১ চা চামচ দারুচিনির গুঁড়ো(Cinnamon powder) (যেকোন সুপারশপে কিনতে পাবেন/ বাসায় ও আস্ত দারুচিনি বেটে নিতে পারেন) একটি পাত্রে নিয়ে ভালো করে মিক্স করে যে যে স্থানে একনে/ব্রণ হয়েছে সেসব স্থানে ভালোভাবে লাগিয়ে আধা ঘণ্টা রেখে দিন। তারপর কুসুম গরম পানি(Hot water) দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

(৫) ডিম আর দারুচিনির মাস্ক
একটি ডিম আর ২ চা চামচ দারুচিনির গুঁড়ো(Cinnamon powder) একটি বাটিতে নিয়ে ভালোভাবে মিক্স করে ফ্রিজে রেখে দিন কমপক্ষে আধা-এক ঘণ্টা। তারপর মাইল্ড ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ দিয়ে একটি টিস্যু দিয়ে মুখ ঘষে চোখের চারপাশের অংশ বাদ দিয়ে আস্তে আস্তে পুরো মুখে চামচের সাহায্যে মাস্ক টি লাগিয়ে নিন। দারুচিনির কারণে চামড়ায় সামান্য জ্বলুনি অনুভূত হতে পারে। এক ঘণ্টা পর পানি দিয়ে ভালোভাবে মুখ ধুয়ে ফেলুন। ভালো ফলাফল পেতে প্রতিদিন একবার করে কমপক্ষে দুই সপ্তাহ ব্যবহার করুন। ডিম আপনার স্কিনের পোরগুলোকে ছোট করবে, আর দারুচিনি অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল উপাদান ব্রণগুলোকে সারিয়ে তুলবে। এই মাস্কটি(Mask) একবার বানালে কমপক্ষে তিনদিন ব্যবহার করতে পারবেন।

আরো পড়ুন  বিউটি পার্লারের মত স্কিন পলিশ করার ঘরোয়া পদ্ধতি

(৬) দই আর মধুর মাস্ক
১ টেবিল চামচ টক দই আর ১ টেবিল চামচ খাঁটি মধু একটি পাত্রে নিয়ে মিশিয়ে মুখে লাগান। আধা ঘণ্টা রেখে ধুয়ে ফেলুন।

(৭) টি ট্রি অয়েল
রাতে ঘুমাতে যাবার আগে মুখ ধুয়ে টিস্যু দিয়ে মুছে তারপর পরিষ্কার(Clear) তুলোর বলে টি ট্রি অয়েল নিয়ে স্কিনের যে যে স্থানে অ্যাকনে আছে তাতে সরাসরি লাগিয়ে নিন। সকালে উঠে মুখ ধুয়ে ফেলুন।টি ট্রি অয়েলের প্রাকৃতিক অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল উপাদান ব্রণ সারাতে সাহায্য করে।

(৮) রসুনের রস
২ কোয়া রসুন(Garlic) থেঁতলে এর রস বের করে ব্রণের উপর একটি পরিষ্কার তুলোর বল বা কটনবাডের সাহায্যে লাগিয়ে নিন। ১০-১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।

(৯) লেবুর রস
ব্রণের উপর সরাসরি লেবু ঘষুন। লেবুর রস ব্রণকে প্রাকৃতিক ভাবেই ধীরে ধীরে সারিয়ে তুলবে।

(১০) বেকিং সোডা আর পানির মাস্ক
২ চা চামচ বেকিং সোডা(Baking soda) (সোডিয়াম বাইকার্বোনেট) সামান্য পানির সাথে মিক্স করে পেস্ট বানিয়ে ব্রণে আক্রান্ত স্থানের উপর লাগিয়ে ১৫-৩০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।

আরো পড়ুন  ফর্সা ও উজ্জ্বল ত্বক পেতে ব্যবহার করুন চন্দনের ফেসপ্যাক

(১১) ব্যবহারকৃত গ্রিন টি ব্যাগ
যাদের গ্রিন টি খাওয়ার অভ্যাস আছে তারা গ্রিন টি(Green tea) বানিয়ে খাবার পর টি ব্যাগটা ফেলে না দিয়ে ফ্রিজে রেখে দিন। রাতে ঘুমাতে যাবার আগে মুখ ধুয়ে ঐ ঠাণ্ডা গ্রিন টি ব্যাগ টা ব্রণে আক্রান্ত স্থানগুলোতে ১০ মিনিট করে ধরে রাখুন। তারপর মুখ না ধুয়ে ঘুমিয়ে যান। সকালে উঠে মুখ ধুয়ে নিন।

(১২) কলার খোসা
কলা খাওয়ার পর এর খোসা টা ফেলে না দিয়ে মুখে আস্তে আস্তে ঘষুন, আধা ঘণ্টা পর মুখ ধুয়ে ফেলুন।

এই পদ্ধতিগুলোর মধ্যে যে পদ্ধতির উপকরণগুলো আপনার কাছে সহজলভ্য মনে হবে, আপনি সেগুলো ব্যবহার করতে পারেন। তাছাড়া আরো কিছু জিনিস মেইনটেইন করতে হবে-
নিয়মিত বালিশের কভার ধুতে হবে।

-মুখে ব্রণের স্থানে বারবার হাত দিয়ে ধরা বা খোঁচাখুঁচি করার বদভ্যাস বন্ধ করতে হবে।

-স্যালিসাইলিক এসিডযুক্ত ফেসওয়াশ(Face Wash) ব্যবহার করতে হবে।

-রাত জাগার অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে।

-তেল-চর্বি জাতীয় খাবার খাওয়া কমাতে হবে।

-অবশ্যই মেকআপ ভালোভাবে তুলে মুখ ধুয়ে তারপর ঘুমাতে যাবেন। মেকআপ(Makeup) এর লেফটওভার স্কিন কে সাফোকেট করে অ্যাকনে ব্রেক আউট ঘটাতে পারে।

-যদি সারামুখে অজস্র ব্রণ বেরিয়ে যায় তবে অবশ্যই চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হতে হবে।

সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *