ফর্সা বাচ্চা পেতে গেলে গর্ভাবস্হায় কি কি খাবেন?

আপনি যখন গর্ভবতী,ক্ষুধা তখন যেন আয়ত্তের বাইরে।ক্ষিধে তখন যেকোনো সময় হানা দেয়।মহিলারা তখন নানারকম সাদা খাবার খায় এই ভেবে যে এতে ফর্সা হবে।যদিও অনেকেই আমাদের মধ্যে শিক্ষিত,তাও ভারতীয়দের মধ্যে ফর্সা বাচ্চার (baby) চাহিদা রয়েই গেছে।বিশেষঞ্জদের মতে যদিও সন্তানের বর্ণ আপনার খাওয়ার ওপর নির্ভর করে না, সেটি ঠিক হয় বাবা মায়ের গায়ের রঙের ওপর – তারই মিশ্রণে।কিন্ত ভারতীয়রা অনেক পৌরাণিক কথায় বিশ্বাস রাখে, এবং তাই মানে যে এরকম কিছু খাবার খেলে গর্ভের সন্তান ফর্সা হবে।

আপনার যদি দৃঢ় বিশ্বাস থাকে এসব পুরাণ কথায় তাহলে এই সব খাবার আপনার খাদ্যতালিকায় যোগ হওয়া উচিত।যদিও এসব খেয়ে বাচ্চা (baby) আপনার ফর্সা হবে এমন কোনো কিছু নিশ্চিত হওয়া যায় না।যত রকমের সাদা খাবার খাওয়া যায় গর্ভাবস্হায় ততই সম্ভাবনা বাচ্চা (baby) ফর্সা হয়ে জন্মানোর।এই সব খাবার বিধি মেনে চলার প্রবণতা শুধুমাত্র ভারতীয় নারীর মধ্যেই দেখা যায়। আপনিও যদি বিশ্বাস করেন, তাহলে খেয়ে দেখুন এই খাবারগুলো গর্ভাবস্হায় ফর্সা বাচ্চার জন্য।

কেশর দুধ প্রচুর মহিলা গর্ভাবস্হায় কেশর দুধ খান।তাদের বিশ্বাস যে কেশর সন্তানকে ফর্সা হতে সাহায্য করে।কেশর গর্ভে বেড়ে ওঠা বাচ্চার ত্ব(baby) কের বর্ণ উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে।

নারকোল আপনি যদি ফর্সা বাচ্চা (baby) চান, তাহলে নারকেলের সাদা শ্বা্সটা খাওয়ার অভ্যেস করুন।ভারতীয়দের বিশ্বাস সাদা শ্বাস বাচ্চা (baby) ফর্সা হতে সাহায্য করে।

দুধ গর্ভাবস্হায় প্রতিটি মহিলার উচিত বেশি করে দুধ খাওয়ার।দুধের বিভিন্ন গুণের জন্য দরকার, বাড়ন্ত ভ্রুণের সুগঠনের জন্য।

ডিম মনে করা হয় চতুর্থ থেকে ষষ্ঠ মাসের মধ্যে ডিমের সাদা অংশটা খুব ভালো ফর্সা বাচ্চা (baby) হওয়ার জন্য।

আলমন্ড কোনো স্ত্রী যদি ফর্সা সন্তান চান, তাহলে গর্ভাবস্হায় শুকনো বা ভেজানো আলমন্ড বাদাম খাওয়া উচিত।ভারতীয় বিশ্বাস,আলমন্ড মিশ্রিত দুধ গায়ের রং পরিষ্কার করতে সাহায্য করে,এবং তাই গর্ভাবস্হায় খাওয়া উচিত।

ঘি গবেষণায় দেখা গেছে যেসব মহিলারা খাবারের মধ্যে ঘি-এর মাত্রা বেশি থাকে,তাদের প্রসব যণ্ত্রণা কম হয়।ওদিকে পুরোনো ভারতীয় চিন্তাধারা অনুযায়ী, ঘি ভ্রুণের বর্ণ উজ্জ্বল করতে সহায়ক। তাই তেলের জায়গায় ঘি খান।

আরো পড়ুন  পাওয়ার ৩০ এবং টার্গেট ট্যাবলেট ২টার মধ্যে কোনটা দিয়ে বেশিসময় যৌনমিলন করা যাবে?

কমলা লেবু গর্ভাবস্হায় রসাল ফলের মধ্যের কমলালেবু খাওয়া উচিত। এটি ভিটামিন সি-এ ভর্তি,যা বাড়ন্ত বাচ্চার (baby) পক্ষে খুব ভালো,এবং ত্বকের বর্ণোজ্জ্বল করতেও সহায়ক।

আনারস এটা একটি খুব চলতি বিশ্বাস ভারতীয়দের কাছে, যে আনারসে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকে,যা ত্বকের বর্ণ উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে।আপনি যদি চান আপনার সন্তান ফর্সা হোক,তাহলে প্রতি সপ্তাহে এক গ্লাস করে আনারসের রস খান।

মৌরি মৌরি ভেজানো জল ত্বকের বর্ণ উজ্জ্বল করতে খুব কার্য্যকরি।গর্ভবতী মহিলাদের রোজ সকালে ৩মিলি মৌরি ভেজানো জল খাওয়া উচিত। এতে অবশ্য গা বমি ভাবটাও অনেকটা কাটে।

বাসর রাত বলেই ব্যাথায় চিৎকার করতে পারেনি ফুলি!
সময় রাত ২টা ৪৫ মিনিট। ডিউটি ডাক্তার সবে মাত্র বিশ্রাম নেয়ার জন্য ঘুম ঘুম চোখে বিছানায়। ইমারজেন্সি থেকে কল আসল। চোখের পাতায় ঘুম ঠেসে, ইমারজেন্সিতে এসে চমকে যাওয়ার মত অবস্থা। মহিলা রোগী, পরনের চাদর রক্তে ভেজা। মুখের রঙ ফ্যাকাসে, সাদা। কাপড় দেখেই বোঝা যাচ্ছে নতুন বিয়ে হয়েছে।

রোগীর নাম ফুলি (ছদ্দ নাম)। হিষ্ট্রি নেয়ার জন্য ডাক্তার জানতে চাইল, কি হয়েছে? রোগীর সাথে সদ্য বিবাহিত জামাই, জা এবং আরও ৪/৫ জন এসেছে। ডাক্তারের প্রশ্ন শুনেই রোগীর বর চোরের মত, রুম থেকে বের হয়ে গেল। রোগীর সঙ্গে আসা এক মহিলা তেজের সাথে বলল, ‘ডাক্তার হইছেন, বুঝেন না কেরে, সব বলতে হইবো!’

ওদের গ্রামে গাছের মাথায় বাধা মাইকটিতে একটির পর একটি বিয়ের গান বেজে চলছে। বিয়ে বাড়িতে সবাই ব্যস্ত। বর পক্ষের যারা এসেছে, কথা বার্তায় অভিজাত ও ব্যক্তিত্ব দেখানোর চেষ্টায় ব্যস্ত। দর কষাকষি করার পরে, কনে পক্ষ থেকে যৌতুক হিসেবে যা পাওয়া গেছে, তা নেহাতই কম নয়।

কিন্তু কম হয়ে গেছে কনের বয়স। বাচ্চা মেয়ে, নাম ফুলি বেগম, সবে মাত্র ১৪ পেরিয়ে ১৫ বছরে পড়েছে। মেয়ের বাবাও মোটামুটি ভাবে লাল শাড়ি পড়িয়ে মেয়েকে বিদায় দিতে পেরে খুশি।

মেয়ে হলে তো বিদায় দিতেই হবে। ক্লাস সেভেন পর্যন্ত মেয়েকে পড়িয়েছে। কম কি! তাছাড়া, শোনা যাচ্ছে ছেলেও নাকি ভাল। বাড়ির উঠোনে বসে মুখে পান চিবোতে চিবোতে ছেলের মামা বলল, ‘এমন ছেলে কোথায় পাবেন মিয়া। তাছাড়া, ছেলে মানুষের একটু দোষ থাকলেও সমস্যা নেই, বিয়ের পর ঠিক হয়ে যাবে।’

আরো পড়ুন  ত্বক নজর কাড়া সুন্দর করে তুলবে যে ৫টি খাবার

বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে মেয়েকে নিয়ে আসা হল তার নতুন ঘরে। যে মেয়েটি সবে মাত্র জীবনের সংজ্ঞা শিখতে শুরু করেছে, শৈশব থেকে কৈশোরে পা রাখতে যাচ্ছে, কিছু বুঝে ওঠার আগেই, তার আজ বাসর রাত (a bed of roses)। পুরুষতান্ত্রিক এই সমাজে সতীত্ব যাচাই করার উৎসব। আর বিয়ে তো একটি সামাজিক বৈধতা মাত্র। সমাজ অনেক এগিয়েছে ঠিকই, কিন্তু বিয়ের সময় মেয়ের মতামতটা এখনও গৌন।

মেয়ের যদি মতামত না নেওয়া হয় বা পরিবারের কারও ধমকে মতামত দানের পর বিয়ে হয়, তাহলে তাকে ধর্ষণ না বলে উপায় নেই। ফুলির ইচ্ছে করছে, চিৎকার করতে, কিন্তু বাসর ঘরে চিৎকার করা যে উচিত নয়, এতটুকু বুঝতে শিখেছে ফুলি। হাত পা ছুঁড়ে বরের লালসার যজ্ঞ থেকে বেরিয়ে আসার মিথ্যে চেষ্টা।

সমাজ বিধীত ‘বর’, যখন আদিম পশুত্ব থেকে বাস্তবে ফিরে আসে, তখন ফুলি রক্তে ভেজা। তখনও ফিনকির মত রক্ত যাচ্ছে। ক্রমান্বয়ে সাদা ফাক্যাসে হয়ে আসছে মুখের রঙ! ফুলি এখন হাসপাতালের বেডে অচেতন হয়ে শুয়ে আছে।

তাকে যখন হাসপাতালে নিয়ে আসা হচ্ছে, ফুলির চোখ পড়েছিল শ্বশুরবাড়ির লোকজনের ওপর। তারা যে কানাকানি করে কথা বলছিল, ব্যাঙ্গাত্তক হাসি তামাশা করছিল। যেন সব দোষ ফুলির। লজ্জায় কারও দিকে তাকাতেও ভয় করে। তারপর ইঞ্জিন চালিত গাড়ীর প্রচন্ড শব্দ। আরও এলোমেলো কিছু মুহূর্ত। কিছুক্ষণ পর, সাদা এপ্রোন পড়া একজন ডাক্তার (doctor) এসে তার হাত ধরেছে। মনে আছে শুধু এটুকুই।

ডাক্তার(doctor) নার্সকে সাথে নিয়ে, ফুলি বেগমকে পরীক্ষা করলেন। ভয়াবহ রকমের পেরিনিয়াল টিয়ার (যৌনাঙ্গ ও তার আশ পাশ ছিঁড়ে গেছে)। তখনও রক্ত যাচ্ছে প্রচুর। হাতে পালস দেখা হল। খুবই কম। জরুরি ভিক্তিতে রোগীকে রক্ত দেয়া দরকার। জরুরি অবস্থায় অপারেশন করে ছিঁড়ে যাওয়া অংশ ঠিক করতে হবে। এই ভয়াবহ সংকটাপন্ন রোগীকে নিয়ে হিমসিম খাওয়ার অবস্থা কর্তব্যরত ডাক্তারের(doctor) ।

ম্যাডামকে ফোন করা হল… প্রাথমিক ভাবে ম্যানেজ করার জন্য রক্ত দরকার… রোগীর সাথে যারা এসেছে এতক্ষণ ইমারজেন্সি রুমের সামনে চিল্লা পাল্লা করছিল। ডাক্তার(doctor) এসে জানালো জরুরি ভিক্তিতে রক্ত দরকার। তখন সবাই চুপ। কেউ কেউ কেটে পড়ার জন্য পাশে সরে গেল। কিছুক্ষণ পর রোগীর লোক জানালো, তারা রক্ত জোগাড় করতে পারবে না। যা হয় হবে! ডাক্তার(doctor) তাদের বুঝানোর চেষ্টা করলেন। কিন্তু লাভ হল না…

আরো পড়ুন  মেয়েদের মাসিকের সময় বেশি রক্ত যাওয়া কি খারাপ?

রাত সাড়ে তিনটায় ম্যাডাম আসলেন। তার ধমকে শেষ পর্যন্ত তারা রক্ত জোগাড় করতে রাজি হল। কিন্তু রক্ত আর সেই রাতে জোগাড় হল না। অপারেশন থিয়েটারে ফুলিকে নিয়ে গিয়ে টিয়ার রিপেয়ার করা হল।

সকালে রোগীর শ্বশুরবাড়ির লোক সবাই উধাও। ফুলির বাবা আসলেন সেই ভোরে, রক্ত জোগাড় হল কোন রকমে। ছয়দিন পর, রোগীর সেপ্টিসেমিয়া ডেভলপ করলো। ইনফেকশন রক্তে ছড়িয়ে গেছে। ভাল অ্যান্টিবায়োটিক দরকার।

রোগীর বাবা এসে বললেন, তারা আর খরচ চালাতে পারবেন না। ডাক্তার (doctor) পরামর্শ দিলেন, কোন সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করাতে, তাহলে ঔষুধ কেনার খরচ কিছুটা বাচবে। কিন্তু, হাসপাতাল মানে তো, কাজকর্ম রেখে একজনকে রোগীর পাশে থাকতে হবে। রিলিজ দিয়ে বাসায় নিয়ে যেতে চাচ্ছেন, যা হবার হবে।

রিলিজ নিয়ে ফুলিকে বাসায় নেয়া হল। আরও বেশি অসুস্থ হওয়ায় চারদিন পরে আবার হাসপাতালে ভর্তি করা হল। পরদিন ভোর ভোর সময়। একবার চোখ খুলে আবার বন্ধ করলো ফুলি। সেই বন্ধ শেষ বন্ধ। এই সমাজের প্রতি ঘৃনায় চোখ জ্বল জ্বল করছিল কি না কেউ দেখতে পারেনি। ভোরের স্বল্প আলোয় বিদায় জানালো জীবনের নিষ্ঠুরতাকে!

ফুলি ‘একিউট রেনাল ফেইলরে’ মারা গেছে। ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে ডায়ালাইসিসের জন্য বলা হয়েছিল, তারা রোগী নিয়ে এত ঝামেলা করতে পারবে না।

শ্বশুরবাড়ি থেকে সেই বাসর রাতের (a bed of roses) পর, কেউ আসেনি। তাদেরই বা এত চিন্তা কি, একটা বউ মরলে দশটা বউ পাওয়া যায়! ফুলি একা নয়, এ রকম ঘটনা প্রায়ই দেখা যায়। এই ঘটনা গুলো চক্ষু লজ্জার ভয়ে প্রকাশ হয় না। কিন্তু সচেতনতা জরুরি।

(লেখাটি ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *